Category Archives: Bangla

হিরণ্যকশিপু মিথ্যাচার (ভাগবতপুরাণ)

ভাগবতঃ বাকি থাকল হিরণ্যকশ্যপ। তার পুত্র প্রহ্লাদ।সে এক ভগবদ ভক্ত বালক। তাকে তার বাবা বলল-যদি তোর ইষ্টদেব রাম সত্য হয় তা হলে এই উত্তপ্ত স্তম্ভ ধরিলেও জ্বলিবে না। তখন সে তা ধরতে উদ্যত হল। এসময় তার মনে সংশয় দেখা দিল, দগ্ধ না হয়ে সে রক্ষা পাবে কিনা। তখন নারায়ন সে স্তম্ভের উপর ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র পিপীলিকার শ্রেণী চালিত করল। প্রহ্লাদ নিশ্চিত হয়ে স্তম্ভ ধরিল। স্তম্ভ বিদীর্ণ হল।স্তম্ভের ভিতর থেকে নৃসিংহ আবির্ভূত হয়ে তার বাবার উদর বিদীর্ণ করিতে লাগলেন। পরে পহ্লদকে ২১ পুরুষ সদগতি লাভ করার বর দিলেন ।
.
প্রশ্ন- প্রজ্বলিত স্তম্ভে পিপীলিকা কি করে বিচরণ করেছিল? প্রহ্লাদও দগ্ধ হলো না কেন? যে সকল লোক এ কথা বিশ্বাস করে ও মানে তাকে উত্তপ্ত স্তম্ভ স্পর্শ করানো উচিত। যদি সে দগ্ধ না হয় তবে মানতে হবে যে প্রহ্লাদ দগ্ধ হয় নাই। পূর্বে সনকাদিকে বর দেওয়া হয়েছিল যে, ৩য় জম্মের পর সে বৈকুন্ঠে আসিবে। নারায়ন কি তা ভুলে গেল ?
ভাগবতের মতে ব্রহ্ম প্রজাপতি কশ্যপ হিরণ্যক্ষ ও হিরণ্যকশ্যপপুরুষের অন্তরগত। প্রহ্লাদের ২১ পুরুষ হয় নাই অথচ ২১ পুরুষের সদগতি করার কথা বলা কত বড় ভুল ! আবার সেই হিরণ্যক্ষ ও হিরণ্যকশ্যপ, রাবণ ও কুম্ভকর্ণ এবং পরে শিশুপাল ও দন্তবক্র রূপে জম্মগ্রহণ করল। তাহলে নৃসিংহের বর কোথায় উড়ে গেল ? প্রমাদগ্রস্ত লোকেরাই প্রমাদপূর্ণ কথা বলে শোনে এবং বিশ্বাস করে। যারা বিদ্বান তারা কখনো সেরূপ করে না

★বেদোক্ত কর্ম পর্ব সংগঠন★

❏ কর্ম এক হোক —
সংগচ্ছধবং সংবদদ্ধং সংবো মানাংসি জানতাম্।
দেবাভাগং যথাপূর্ব্বে সংজানানা উপাসতে।।
➢ ঋগ্বেদ. ১০/১৯১/২|
বঙ্গানুবাদঃ- হে মনুষ্য! তোমরা একসঙ্গে চল, একসঙ্গে মিলিয়া আলোচনা কর, তোমাদের মন উত্তম সংস্কার যুক্ত হউক। পূর্ব্বকালীন জ্ঞানী পুরুষেরা যেরূপ কর্ত্তব্য কর্ম্ম সম্পাদন করিয়াছেন তোমরাও সেইরূপ কর।।
❏ চিত্ত এক হোক—
সমানো মন্ত্রঃ সমিতিঃ সমানী সমানসংখ্যক মন সহচিত্তমেষাম্।
সমানসংখ্যক মন্ত্রমভি মন্ত্রয়ে বঃ সমানেন বো হবিষা জুহোমি।।
➢ ঋগ্বেদ.১০/১৯১/৩|
বঙ্গানুবাদঃ- তোমাদের সকলের মত এক হউক, মিলন ভূমি এক হউক, মন এক হউক, সকলের চিত্ত সম্মিলিত হউক, তোমাদের সকলকে একই মন্ত্রে সংযুক্ত করিয়াছি, তোমাদের সকলের জন্য অন্ন ও উপভোগ একই প্রকারে দিয়াছি।।
❏ লক্ষ্য এক হোক —
সমানী ব আকুতি সমানা হৃদয়ানি বঃ।
সমানমস্তুু বো মনো যথা বঃ সু সহাসতি।।
➢ ঋগ্বেদ. ১০/১৯১/৪|
বঙ্গানুবাদঃ- তোমাদের সকলের লক্ষ্য সমান হউক, তোমাদের হৃদয় সমান হউক, তোমাদের মন সমান হউক। এইভাবে তোমরা সকলের শক্তি বৃদ্ধিপ্রাপ্ত হউক।
❏ মিত্র দৃষ্টি —
দৃতে দৃংহ মা মিত্রস্য মা চক্ষুষা সর্ব্বাণি ভূতানি সমীক্ষন্তাম্।
মিত্রস্যাহং চক্ষুষা সর্ব্বাণি ভূতানি সমীক্ষে।
মিত্রস্য চক্ষুষা সমীক্ষামহে।।
➢ যজুর্বেদ. ৬৬/১৮ |
বঙ্গানুবাদঃ- হে দুঃখনাশক পরমেত্মন্ ! আমাকে সুখের সহিত বর্দ্ধন কর। সব প্রাণী আমাকে মিত্রের দৃষ্টিতে দেখুক। আমি সর্ব্ব প্রাণীকে মিত্রের দৃষ্টিতে দেখি। আমরা একে অন্যকে মিত্রের দৃষ্টিতে দেখি।
❏ মিলন —
সংবঃ পৃচ্যন্তাং তম্বঃ সংমনাংসি সমুব্রতা।
সং বোহয়ং ব্রহ্মণস্পতির্ভগঃ সংবো অজিগমৎ।।
➢ অথর্ব্ববেদ. ৬/৭৪/১ |
বঙ্গানুবাদঃ- তোমাদের শরীর মন এবং কর্ম্ম একসঙ্গে মিলিয়া থাকুক। হে জ্ঞানের রক্ষক। ঐশ্বর্যময় প্রভো! সকলকে মিলাইয়া রাখ।
❏ সন্তোষ —
সংজ্ঞপনং বো মনসোহথ সংজ্ঞপনং হৃদঃ।
অথচো ভগস্য যচ্ছান্তং তেন সংজ্ঞপয়ামি বঃ।।
➢ অথর্ব্ববেদ. ৬/৭৪/২|
বঙ্গানুবাদঃ- তোমাদের মনের উত্তম জ্ঞান, হৃদয়ের সন্তোষ ভাব এবং ভাগ্যের শ্রান্তি এই সব দ্বারা তোমাদের সন্তোষ বিধান করিতেছি।
❏ ব্রাহ্মণ -ক্ষত্রিয় —
যত্র ব্রহ্মচ ক্ষত্রংচ সম্যঞ্চৌ চরতঃ সহ।
তংলোকং পূণ্যং প্রজ্ঞেয়ং যত্রদেবাঃ সহাগ্নিনা।।
➢ যজুর্বেদ. ২০/২৫ |
বঙ্গানুবাদঃ- যেখানে জ্ঞানীরা এবং বীর পুরুষেরা একসঙ্গে বাস করেন, যেখানে বিদ্বানেরা তেজের সঙ্গে থাকেন সাই দেশকে পূণ্য ও জ্ঞানময় জানিবে।
❏ সকলে ভাই ভাই —
অজ্যেষ্ঠাসো অকনিষ্ঠাসঃ এতে সং ভ্রাতরো তাবৃধুঃ সৌভগায়।
যুব পিতা স্বপা রুদ্র এসাং সুদুঘা পুশ্নিঃ সুদিনা মরুদ্ভঃ।।
➢ ঋগ্বেদ. ৫/৬০/৫ |
বঙ্গানুবাদঃ- মনুষ্যের মধ্যে কেহ বড় নয় বা কেহ ছোট নয়। ইহারা ভাই ভাই। সৌভাগ্য লাভের জন্য ইহারা প্রযত্ন করে। ইহাদের পিতা তরুণ শুভকর্ম্ম ঈশ্বর এবং মাতা দুগ্ধবতী প্রকৃতি। প্রকৃতি মাতা ক্রন্দনহীন পুরুষার্থী সন্তানকেই সুদিন প্রদান করে।
❏ জন্মভূমি —
তে অজ্যেষ্ঠা অকনিষ্ঠাস উদ্ভিদো হমধ্যমাসেঃ মহসা বি বাবৃধুঃ।
সুজাতাসো জনুষঃ পৃশ্নি মাতরা দিবো মর্যা আ নো অচ্ছা জিগতন।।
➢ ঋগ্বেদ. ৫/৫৯/৬|
বঙ্গানুবাদঃ- মনুষ্যের মধ্যে কেহ বড় নয় কেহ ছোট নয় এবং কেহ মধ্যম নয় তাঁহারা সকলেই উন্নতি লাভ করিতেছে। উৎসাহের সঙ্গে বিশেষ ভাবে ক্রমোন্নতির প্রযত্ন করিতেছে। জন্ম হইতেই তাঁহারা কুলীন। তাঁহারা জন্মভূমির সন্তান দিব্য মনুষ্য। তাঁহারা আমার নিকট সত্য পথে আগমন করুক।
❏ অস্পৃশ্যতা বর্জন —
সহৃদ্বয়ং সাংমনস্যমবিদ্বেষং কৃণোমি বঃ।
অন্যো অন্যমভি হর্যত বৎসং জাতমিবাঘ্ন্যা।।
➢ অউর্ব্ববেদ. ৩/৩০/১ |
বঙ্গানুবাদঃ- আমি তোমাদের জন্য সহৃদয়তা, উত্তম মন, নির্বৈরতা প্রদান করিয়াছি। তোমরা একে অন্যের প্রতি গাভী যেমন নবজাত বৎসের মলিন শরীরকে সর্ব্বশ্রেষ্ঠ অঙ্গ জিহ্বা দ্বারা পরিষ্কার করে সেইরূপ প্রেম কর।
❏ পিতা -পুত্র —
অনুব্রত পিতুঃ পুত্রশোক মাত্রা ভবতু সংমনাঃ।
জায়াপত্যে মধমতীং বাচং বদতু শংতিবাম্।।
➢ অথর্ব্ববেদ. ৩/৩০/২|
বঙ্গানুবাদঃ- পুত্র পিতার অনুকুলে কার্য করিবে, মাতার সহিত সৎ ভাবে থাকিবে। পত্নী পতির সহিত শান্ত ও মধুর বচন বলিবে।
❏ ভ্রাতা ভাগ্নী —
মা ভ্রাতা ভ্রাতারং দ্বিক্ষম্মা স্বসারমুতস্বসা।
সম্যঞ্চঃ সব্রতা ভূত্বা বাচং বদত ভদ্রয়া।।
➢ অথর্ব্ববেদ. ৩/৩০/৩|
বঙ্গানুবাদঃ- ভ্রাতা ভ্রাতাকে দ্বেষ করিবে না। ভাগ্নী ভগ্নীকে দ্বেষ করিবে না। তোমরা সকলে সম মতাবলম্বী ও সম কর্ম্মাবলম্বী হইয়া সৎ ভাবে বার্ত্তালাপ কর।
❏ অবিরোধ —
যেন দেবা ন বিযংতি নোচ বিদ্বিষতে মিথঃ।
তৎকৃন্মো ব্রহ্ম বো গৃহে সংজ্ঞানাং পুরুষেভ্যঃ।।
➢ অথর্ব্ববেদ. ৩/৩০/৪|
বঙ্গানুবাদঃ- যাহাতে জ্ঞানীদের মধ্যে বিরোধ না হয়, পরস্পরের মধ্যে বিদ্বেষ না জন্মে সেই উত্তম জ্ঞান তোমাদের গৃহে মনুষ্যের মধ্যে দান করিয়াছি।
❏ সম্বন্ধ —
জ্যায়স্বন্তশ্চিত্তিনো মা বি যৌষ্ট সংরাধয়ন্ত সধুরাশ্চরন্ত।
অন্যো অন্যস্মৈ বল্পুবদন্ত এত সব্রীচী সাম্বঃ সংমনসস্কৃণোমি।।
➢ অথর্ব্ববেদ. ৩/৩০/৫ |
বঙ্গানুবাদঃ- তোমরা জ্যেষ্ঠর সন্মান করিও। তোমরা বিচারশীল সাধক্ একই বন্ধনের নীচে আবদ্ধ হইয়া চলিতেছ। তোমরা পৃথক হইও না। একে অন্যের সঙ্গে মনোহর কথাবার্ত্তায় অগ্রসর হও।
❏ পানাহার —
সমানী প্রপা সহ বোরন্নভাগঃ সমানে যোক্তো সহ বো যুনজোমি।
সমঞ্চোহগ্নিং য়পর্যতারা নাভি মিবাভিতঃ।।
➢ অথর্ব্ববেদ. ৩/৩০/৬|
বঙ্গানুবাদঃ- তোমাদের পান এক সঙ্গে, ভোজনও এক সঙ্গে হউক। তোমাদিগকে এক সঙ্গে একই প্রেমবন্ধনে যুক্ত করিয়াছি। সকলে মিলিয়া পরমাত্মাকে পূজা কর। রথচক্রের কেন্দ্রের চারিদিকে যেমন অর থাকে তোমরা সেই ভাবে থাক।
❏ অতি ভোজন —
সঘ্রীচীনাম্বঃ সংমনসস্কৃণোম্যেকশষ্টীস্তুসংবননেন সর্বান্।
দেবা ইবাহ মৃতং রক্ষমাণাঃ সায়ংপ্রাতঃ সৌমনসো বো অস্ত।।
➢ অথর্ব্ববেদ. ৩/৩০/৭|
বঙ্গানুবাদঃ তোমরা সৎভাবে একই পথে অগ্রসর হও, চিত্ত তোমাদের উন্নত হউক, পানাহার তোমাদের এক সঙ্গে হউক -আমি তোমাদের জন্য এইরূপ ব্যবস্থাই করিয়াছি। অমৃত রসে আপ্লুত বিদ্বানদের ন্যায় প্রাতে ও সায়ংকালে তোমাদের চিত্ত প্রসন্ন হউক।
● ও৩ম্ শান্তিঃ শান্তিঃ শান্তিঃশ্ ।।।
● সংগ্রহঃ পন্ডিত দিনবন্ধু বেদশাস্ত্রীর (কোলকাতা আর্য সমাজ) বেদ ভাষ্য থেকে সংগৃহিত।
● ডক্ সম্পাদনাঃ আর্য বিশ্বজিৎ রায়।
❖ রাখি পূর্ণিমা ১ লা ভাদ্র ১৪২৩ বাংলা। 18/08/2016 খৃষ্টাব্দ

গায়ত্রী মন্ত্রের ব্যাখ্যা ও বৈজ্ঞানিক তাৎপর্য।

গায়ত্রী মন্ত্র হল বৈদিক
হিন্দুধর্মের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্র। প্রচলিত বিশ্বাস অনুসারে,বেদের অন্যান্য মন্ত্রের মতো গায়ত্রী মন্ত্রও “অপৌরষেয়” (অর্থাৎ,কোনো মানুষের দ্বারা রচিত নয়) এবং এক ব্রহ্মর্ষির কাছে (গায়ত্রী মন্ত্রের ক্ষেত্রে ব্রহ্মর্ষি বিশ্বামিত্র ) প্রকাশিত। এই মন্ত্রটি
বৈদিক সংস্কৃত ভাষায় রচিত। এটি ঋগ্বেদের মণ্ডলের (৩।৬২।১০) একটি
সূক্ত । গায়ত্রী মন্ত্র গায়ত্রী ছন্দে রচিত। ওঁ ভূর্ভুবঃ স্বঃ
তৎ সবিতুর্বরেণ্যং ভর্গো দেবস্য ধীমহি। ধিয়ো য়ো নঃ প্রচোদয়াৎ।। [ ঋগবেদ ৩.৬২.১০,যজুর্বেদ ৩.৩৫,৩০.২,সামবেদ উত্তরার্চ্চিক ৬.৩.১০] পদচ্ছেদ: ওঁ-পরমাত্মা, ভূঃ-প্রাণস্বরুপ, ভূবঃ-দুঃখনাশক, স্বঃ-সুখস্বরুপ, তত্-সেই, সবিতু-সমগ্র জগতের সৃষ্টিকর্তা, বরেণ্যম-বরণযোগ্য সর্বোত্তম, ভর্গো-পাপ নাশক, দেবস্য-সমগ্র ঐশ্বর্য দাতা, ধীমহি-ধারণ করি, ধিয়ঃ-প্রজ্ঞাসমূহকে, য়ঃ-যিনি, নঃ-আমাদের , প্রচোদয়াত্-সত্য জ্ঞান প্রদান করুক। অনুবাদ-পরমাত্মা প্রাণস্বরুপ, দুঃখনাশক ও সুখস্বরুপ। সেই জগতসৃষ্টিকারী ও ঐশ্বর্যপ্রদাতা পরমাত্মার বরণযোগ্য পাপ-বিনাশক তেজকে আমরা ধারণ করি। তিনি আমাদের বুদ্ধিকে শুভ গুণ, কর্ম ও স্বভাবের দিকে চালনা করুক। গায়ত্রী মন্ত্রের বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণঃ (ওঁ ভূর্ভুবঃ স্বঃ )
ভূঃ-পৃথিবী, ভুবঃ-সূর্য, স্বঃ- ছায়াপথ বা আকাশগঙ্গা এই টার্মগুলো ব্যবহার করা হয়েছে। যখন একটি ফ্যান ৯০০ আরপিএম গতিতে ঘুরে, এটি বাতাসের মধ্য দিয়ে একটি শব্দ উৎপন্ন করে। একইভাবে যখন অসীম গ্রহমণ্ডলী,সৌর সিস্টেম,ছায়াপথ প্রতি সেকেন্ডে ২০,০০০ বার গতিতে ঘুরে,তারা একটি শব্দ উৎপন্ন করে। ঋষি বিশ্বামিত্র ধ্যানের মাধ্যমে এই শব্দ শুনতে চেষ্টা করেন এবং ঘোষণা করেন যে,এই শব্দ ঐশ্বরিক ওম। ঐ প্রজন্মের ঋষিরা সিদ্ধান্তে উপনীত হন যে, এই ওম এই সৃষ্টিতে সবসময় উৎপাদিত হয় এবং বিদ্যমান থাকে এবং নাকি ঈশ্বরের একটি উপায় তার সৃষ্টির সাথে যোগাযোগ করার। এমনকি গীতায়,শ্রীকৃষ্ণ ঘোষণা করেন যে,ঈশ্বরকে ওম ইতি একক্ষরম ব্রহ্ম হিসেবে, এটি দ্বারা বুঝায় যে ওম ছাড়া ঈশ্বরকে পূজা করার মত আর কোন আকৃতি নেই। যোগী এই শব্দকে “উদগীত নাদ” হিসেবে বলেন যা ধ্যানের সময় সমাধিতে পৌঁছানোর জন্য জপ করা হয় । এটা অন্য সব বৈদিক মন্ত্রের শুরুতে সংযোজন করা হয়। (তৎ সবিতুর্বরেণ্যং) তৎ-স্রষ্টা, সবিতুর-সূর্য নামক একটি গ্রহ যা সংস্কৃত অর্থ মতে সূর্যের সমার্থক, বরেণ্যম-তার সামনে নত হওয়া। এর মানে হল যে,আমরা স্রষ্টার সামনে নত হচ্ছি যার শব্দ ওম এবং যাকে অসীম গ্রহমণ্ডলী থেকে আগত আলোর মত দেখায়। (ভর্গো দেবস্য ধীমহি) ভর্গো-আলো, দেবস্য-দেবতা, ধীমহি-তাকে উপাসনা করা । যা অর্থ আ্মাদের আলো রুপে ঈশ্বরের উপাসনা করার প্রয়োজন।(ধিয়ো য়ো নঃ প্রচোদয়াৎ) ধিয়ো-জ্ঞান, য়ো-কেবা, নঃ-আমাদেরকে,প্রচোদয়াৎ- যথাযথ মাধ্যম / পথে । যার মানে যিনি আমাদের জ্ঞান দান করে থাকেন বা আমাদের জ্ঞান লাভ করতে সঠিক দেখান,সেই ঈশ্বর। এভাবে ঘুরন্ত অসীম ছায়াপথ থেকে নির্গত শক্তি এই সৃষ্টির সবদিকে ছড়িয়ে আছে বলে তাঁকে প্রনব বলা হয়। এই অনুরূপ K.E. = 1/2 mv2 । বেদের অনেক মন্ত্রের আগে তাই এই শক্তিশালী ওম যুক্ত করা হয়েছে এবং বিশ্বের এমনকি অনেক রিলিজিওনেও এই শব্দ সামান্য পরিবর্তন করে যোগ করেছেন এবং তাদের প্রার্থনায়ও যুক্ত করেছেন। প্রস্তুত করেছেন শ্রী প্রসেনজিত।

ভাগবদ্ পুরাণ সমীক্ষা

শ্রীমদ্ভাগবত_পুরাণ এটা কবে রচিত? এটা কি
কৃষ্ণদৈপরায়ণ ব্যাসদেব রচনা করেছেন? এর
স্কন্ধ, অধ্যায় ও শ্লোক সংখ্য কত? # উত্তর – বেশীর ভাগ পৌরাণিক দাদারাই বলবে
এটা কৃষ্ণদৈপরায়ন ব্যাসদেব রচনা করেছেন
মহাভারতের যুগে এবং এতে শ্লোক সংখ্যা ১৮হাজার। প্রমাণ হিসেবে তারা ঐ গ্রন্থের একটি
শ্লোক দেখিয়ে প্রমাণের চেষ্টা করবে। শ্লোকটা
একটু দেখেনি-
“অষ্টাদশ শ্রী ভাগবত মিষ্যতে” # শ্রীমদ্ভাগবত ১২।১৩।৯. অর্থাৎ ভাগবতে মোট ১৮০০০ শ্লোক আছে। প্রিয় শুধি,
এবার আমার কথাগুলো মনোযোগ দিয়ে পড়ুন, আশা
করি অনেক নতুন তথ্য পাবেন। ১. এই গ্রন্থটা মহাভারতের যুগের রচনাকৃত নয়।
আর এর প্রমাণ ভাগবতেই আছে। দেখুন- “আশ্রমাঃ ঘরনৈরুদ্বস্তীর্ থানি সরিস্তথা। দেবতা য়তনান্যত্র দুষ্টর্নষ্টানি ভূরিশঃ” # ভাগবতমাহাত্ম প্রকরণ ১।৩৪. অর্থাৎ নারদ বলছেন যে কলিযুগে যবনরা (মুসলিম)
ভারতের নদী, তীর্থ ও আশ্রমের উপর অধিকার
করে নিয়েছে এবং দেবমন্দিরকে নষ্ট করে দিয়েছে।
এখন প্রশ্ন হল মহাভারতের যুগে কি যবন বা
মুসলিম ছিল??? না ছিল না, এর থেকেই পরিষ্কার
যে ভাগবত মুসলিম আক্রমণের পরেই রচিত হয়েছে
এবং কৃষ্ণদৈপরায়ণ ব্যাসদেব এটা রচনা করেনি।
২. এর শ্লোক সংখ্যা কখনোই ১৮০০০ নয়, কেননা গণনা করলে এতে মাহাত্মসহ মোট ১৪৭৬৪টা শ্লোক (প্রায়) পাওয়া যায়। মানে এই
গ্রন্থে ভেজাল আছে এটা ১০০ ভাগ নিশ্চত।
এখন বলতে পারে যে আমার কথাটা যে ঠিক তার
প্রমাণ কি??? কথাটা অযোক্তিক নয়, তাই আপনাদের জন্য প্রমাণ উপস্থাপন করলাম। যারা
যাচাই করতে চান তারা রামকৃষ্ণ মিশন থেকে
গীতাপ্রেস এর শ্রীমদ্ভাগবত পুরাণ কিনে যাচাই
করে নিবেন-
মোট স্কন্ধ ১২টা।
মোট অধ্যায় ৩৩৫টা, মাহাত্মসহ মোট অধ্যায় ৩৪৫টা। মোট শ্লোক সংখ্যা ১৪০৬১টা, মাহাত্মসহ মোট শ্লোক ১৪৭৬৪টা প্রায়। অনেকে প্রশ্ন করতে পারেন কোন স্কন্ধে কতটা
অধ্যায় ও শ্লোক আছে ??? তাই সেটাও দিলাম
আপনাদের জানার জন্য-
১ম স্কন্ধে ১৯টি অধ্যায় ও ৮০৯টা শ্লোক আছে।
২য় স্কন্ধে ১০টি অধ্যায় ও ৩৯১টা শ্লোক আছে।
৩য় স্কন্ধে ৩৩টি অধ্যায় ও ১৩১৭টা শ্লোক আছে।
৪র্থ স্কন্ধে ৩১টি অধ্যায় ও ১৪৪৫টা শ্লোক
আছে।
৫ম স্কন্ধে ২৬টি অধ্যায় ও ৬৬৮টা শ্লোক আছে।
৬ষ্ঠ স্কন্ধে ১৯টি অধ্যায় ও ৮৫১টা শ্লোক আছে।
৭ম স্কন্ধে ১৫টি অধ্যায় ও ৭৫০টা শ্লোক আছে।
৮ম স্কন্ধে ২৪টি অধ্যায় ও ৯৩১টা শ্লোক আছে।
৯ম স্কন্ধে ২৪টি অধ্যায় ও ৯৬৪টা শ্লোক আছে।
১০ম স্কন্ধে ৯০টি অধ্যায় ও ৩৯৪৮টা শ্লোক
আছে।
১১দশ স্কন্ধে ৩১টি অধ্যায় ও ১৩৬৭টা শ্লোক আছে।
১২দশ স্কন্ধে ১৩টি অধ্যায় ও ৫৬৬টা শ্লোক
আছে।
মানে মাহাত্ম বাদে অধ্যায় প্রায় ৩৩৫টা ও
শ্লোক প্রায় ১৪০৬১টা। শুরুতে মাহাত্ম্যমে অধ্যায় আছে ৬টি ও শ্লোক
আছে প্রায় ৫০৪টা।
শেষে মাহাত্ম্যমে অধ্যায় আছে ৪টি ও শ্লোক
আছে প্রায় ১৯৯টা।
মানে মাহাত্ম্যমসহ অধ্যায় প্রায় ৩৪৫টা ও
মাহাত্ম্যমসহ শ্লোক আছে প্রায় ১৪৭৬৪টা।
বিঃদ্রঃ এই পোষ্টটির জন্য আর্য সমাজ, আর্য
বীর ও অগ্নিবীররা কোন দায়ী থাকবে না। এটা
একান্তই Rajon Arya এর ব্যক্তিগত একটা গবেষণা। এখানে প্রায় লেখার কারণ হল মনের ভুলে
গণনায় সংখ্যাটা হালকা এদিক সেদিক হতে পারে।
তবে হবে না যে এটা ৯৯ ভাগ নিশ্চিত। তারপরও
আপনাদের যাচাই করার অনুরোধ রইল। নমস্তে।

নমস্কার কি?

একজন বৈদিক তথা সনাতন হিন্দু
ধর্মালম্বী ব্যক্তির অন্যতম
একটি বৈশিষ্ঠ্য হল
কারো সাথে দেখা হলে কড়জোড়ে
তাকে নমস্কার প্রদান করে অভিবাদন
বা সম্মান জানানো।
কিন্তু হিন্দুসমাজ মানেই হল
ধর্মগ্রন্থকে বুড়ো আঙ্গুল
দেখিয়ে নিজে নিজে নতুন নিয়ম
বানানো,ঐক্য আমাদের পছন্দ
নয়,অযাচিত বিভেদেই আমাদের
আসক্তি।আর এই সুত্র ধরেই
অনেকে বিশেষত নির্দিষ্ট কিছু
সংগঠনের সদস্যরা সার্বজনীন
এবং পবিত্র বেদাদি কর্তৃক
অনুমোদিত,সকল প্রাচীন ঋষি-
মহাঋষিসহ আমাদের সকল পূর্বপুরুষদের
ব্যবহৃত সম্বোধন ‘নমস্কার’
না বলে ‘হরে কৃষ্ণ’,’জয় রামজীকি’
ইত্যাদি ব্যবহার করা শুরু করেছেন।শুধু
তাই নয়,তাদের অনেকেই
উল্টো নমস্কার প্রদানকারী সাধারন
হিন্দুদেরকে জিজ্ঞেস
করছেন,”আপনারা কেন নমস্কার দেন?
হরে কৃষ্ণ দেয়া ই ভাল!”
প্রথমেই জেনে নেই নমস্কার
সম্বন্ধে কিছু তথ্য।
বৈদিক শাস্ত্রে ‘মুদ্রা’ হল হাতের
বা দেহের বিশেষ একটি অবস্থান।
নাট্যশাস্ত্রে ২৪ প্রকার মুদ্রার
বর্ননা করা হয়েছে।দুই হাত জোড় করার
এই বিশেষ মুদ্রাটির নাম
হল ‘অঞ্জলী মুদ্রা’।
এটির দুটো ব্যবহার-১)কাউকে দেখলে
অভিবাদন জানাতে যখন এটি ব্যবহার
করা হয় তখন একে বলা হয় নমস্কার।
২)বৈদিক সান্ধ্য উপাসনার শেষ
ধাপে যখন ঈশ্বরকে উদ্দেশ্য করে এই
মুদ্রা করা হয় তখন একে বলে প্রনাম-
আসন।
মূলত শব্দটি হল ‘নমস্তে’ যার
বাংলা রুপ হল নমস্কার। ‘নম’ শব্দের
অর্থ হল নত হওয়া বা শ্রদ্ধা/সম্মান
প্রদর্শন করা যার সাথে ‘তে’ ধাতু যুক্ত
হয় যার অর্থ তোমাকে অর্থাত্
নমস্তে অর্থ হল তোমার প্রতি রইল
শ্রদ্ধা।
ভারতের বিভিন্ন প্রাচীন
মন্দিরে এবং প্রত্নতাত্তিক
নিদর্শনে শ্রীকৃষ্ণ,শ্রীরামচন্দ্র সহ
বিভিন্ন ব্যক্তিত্ত্বের নমস্কাররত
অবস্থায় খচিত নকশা পাওয়া যায়।
আপস্তম্ব ও বৌধায়ন সুত্রেও
অভিবাদনের নিয়ম হিসেবে নমস্কার
দেবার কথা পাওয়া যায়।
পবিত্র বেদে অনেকবার ই
নমস্তে তথা নমস্কার প্রদানের
উল্লেখ পাওয়া যায়।
পবিত্র বেদে অনেকবার ই
নমস্তে তথা নমস্কার প্রদানের
উল্লেখ পাওয়া যায়।
নমস্তে স্ত্বায়তে নমো অস্তু পরায়তে।
নমস্তে রুদ্র তিষ্ঠতে আসীনাযোত
তে নমঃ।।(অথর্ববেদ ১১.২.১৫)
অনুবাদ-নমস্কার তোমায়(কেননা)
আমাদেরকে দেয়া চৈতন্যের
জন্য,হে রুদ্র তোমায় নমস্কার
কেননা তুমি ই এই
বিবেকরুপে আমাদের মাঝে অবস্থান
কর!
আরেকটি মন্ত্র কৃষকদের অভিনন্দন
জানাতে গিয়ে বলছে-
নমস্তে লাঙ্গলেভ্যো নম…
বিরুত্ক্ষেত্রিযনাশন্যপা…(অথর্ববেদ
২.৮.৪)
অর্থাত্ যারা লাঙ্গল ও চাষের
মাধ্যমে জমিতে ফসল ফলান তাদের
জানাই নমস্কার।
অভিবাদনরুপে নমস্কার প্রদানের
উত্কৃষ্ট উদাহরন যজুর্বেদের
নিম্নলিখিত মন্ত্রটি-
নমো জ্যেষ্ঠায় চ কনিষ্ঠায় চ
নমং পূর্বজায় চাপরজায চ
নমো মধ্যমায় চাপগল্ভায় চ
নমো জঘন্যায় চ বুধ্ন্যায় চ।।(যজুর্বেদ
১৬.৩২)
অনুবাদ-নমস্কার
জ্যেষ্ঠদেরকে,নমস্কার
কনিষ্ঠদেরকে,নমস্কার
উচ্চবিত্ত,মধ্যবিত্ত,ধনী-
গরীব,জ্ঞানী,স্বল্পজ্ঞানী সকলকে!
অর্থাত্ এ
থেকে আমরা জানতে পারি যে
নমস্কার এমন ই এক অনন্য অভিবাদন
যাতে ধনী-গরীব,ছোট-বড়,শিক্ষিত-
অশিক্ষিত ভেদ নেই।যে কেউ ই
এটা যে কাউকে দিতে পারে।
আমাদের বৈদিক ঋষিগন সকলেই
নমস্কার দিয়ে অভিবাদন
জানাতেন,শ্রীরাম,শ্রীকৃষ্ণ সকলেই
নমস্তে ব্যবহার করতেন অভিবাদন
জানাতেন।আর তার ই ভক্তরুপ
ব্যক্তিগন আজ হিন্দুসমাজে নিয়ম চালু
করছে নমস্কার না বলে ‘হরে কৃষ্ণ’
ইত্যাদি নিজেদের
বানানো কথা বলতে।অথচ শ্রীকৃষ্ণ
নিজেও তাঁর ভক্তদেরকে নমস্কার বাদ
দিয়ে ‘হরে কৃষ্ণ’ বলতে বলেন নি।ঈশ্বর
অজ্ঞানীদের আলোর পথ দেখাক এই
কামনা থাকল।
তবে শেষ করার আগে একটি চমকপ্রদ
তথ্য দিয়ে শেষ করি।২০০২ সালের জুন
মাসে প্রকাশিত ইন্ট্যারন্যশনাল
ইয়োগা সোসাইটির
ম্যগাজিনে বলা হয়
যে তারা বৈজ্ঞানিক পরীক্ষার
মাধ্যমে দেখেছেন যে নমস্কার
ভঙ্গীতে অর্থাত্ অঞ্জলি মুদ্রায়
প্রানায়াম বা ধ্যন করলে তা হাতের
মাংসপেশীকে শিথিল
করে এবং এটি মাংসপেশীজনিত
ব্যথা নিরাময়ে উপকারী।
ওঁ শান্তি শান্তি শান্তি

নমস্কার কি?

একজন বৈদিক তথা সনাতন হিন্দু
ধর্মালম্বী ব্যক্তির অন্যতম
একটি বৈশিষ্ঠ্য হল
কারো সাথে দেখা হলে কড়জোড়ে
তাকে নমস্কার প্রদান করে অভিবাদন
বা সম্মান জানানো।
কিন্তু হিন্দুসমাজ মানেই হল
ধর্মগ্রন্থকে বুড়ো আঙ্গুল
দেখিয়ে নিজে নিজে নতুন নিয়ম
বানানো,ঐক্য আমাদের পছন্দ
নয়,অযাচিত বিভেদেই আমাদের
আসক্তি।আর এই সুত্র ধরেই
অনেকে বিশেষত নির্দিষ্ট কিছু
সংগঠনের সদস্যরা সার্বজনীন
এবং পবিত্র বেদাদি কর্তৃক
অনুমোদিত,সকল প্রাচীন ঋষি-
মহাঋষিসহ আমাদের সকল পূর্বপুরুষদের
ব্যবহৃত সম্বোধন ‘নমস্কার’
না বলে ‘হরে কৃষ্ণ’,’জয় রামজীকি’
ইত্যাদি ব্যবহার করা শুরু করেছেন।শুধু
তাই নয়,তাদের অনেকেই
উল্টো নমস্কার প্রদানকারী সাধারন
হিন্দুদেরকে জিজ্ঞেস
করছেন,”আপনারা কেন নমস্কার দেন?
হরে কৃষ্ণ দেয়া ই ভাল!”
প্রথমেই জেনে নেই নমস্কার
সম্বন্ধে কিছু তথ্য।
বৈদিক শাস্ত্রে ‘মুদ্রা’ হল হাতের
বা দেহের বিশেষ একটি অবস্থান।
নাট্যশাস্ত্রে ২৪ প্রকার মুদ্রার
বর্ননা করা হয়েছে।দুই হাত জোড় করার
এই বিশেষ মুদ্রাটির নাম
হল ‘অঞ্জলী মুদ্রা’।
এটির দুটো ব্যবহার-১)কাউকে দেখলে
অভিবাদন জানাতে যখন এটি ব্যবহার
করা হয় তখন একে বলা হয় নমস্কার।
২)বৈদিক সান্ধ্য উপাসনার শেষ
ধাপে যখন ঈশ্বরকে উদ্দেশ্য করে এই
মুদ্রা করা হয় তখন একে বলে প্রনাম-
আসন।
মূলত শব্দটি হল ‘নমস্তে’ যার
বাংলা রুপ হল নমস্কার। ‘নম’ শব্দের
অর্থ হল নত হওয়া বা শ্রদ্ধা/সম্মান
প্রদর্শন করা যার সাথে ‘তে’ ধাতু যুক্ত
হয় যার অর্থ তোমাকে অর্থাত্
নমস্তে অর্থ হল তোমার প্রতি রইল
শ্রদ্ধা।
ভারতের বিভিন্ন প্রাচীন
মন্দিরে এবং প্রত্নতাত্তিক
নিদর্শনে শ্রীকৃষ্ণ,শ্রীরামচন্দ্র সহ
বিভিন্ন ব্যক্তিত্ত্বের নমস্কাররত
অবস্থায় খচিত নকশা পাওয়া যায়।
আপস্তম্ব ও বৌধায়ন সুত্রেও
অভিবাদনের নিয়ম হিসেবে নমস্কার
দেবার কথা পাওয়া যায়।
পবিত্র বেদে অনেকবার ই
নমস্তে তথা নমস্কার প্রদানের
উল্লেখ পাওয়া যায়।
পবিত্র বেদে অনেকবার ই
নমস্তে তথা নমস্কার প্রদানের
উল্লেখ পাওয়া যায়।
নমস্তে স্ত্বায়তে নমো অস্তু পরায়তে।
নমস্তে রুদ্র তিষ্ঠতে আসীনাযোত
তে নমঃ।।(অথর্ববেদ ১১.২.১৫)
অনুবাদ-নমস্কার তোমায়(কেননা)
আমাদেরকে দেয়া চৈতন্যের
জন্য,হে রুদ্র তোমায় নমস্কার
কেননা তুমি ই এই
বিবেকরুপে আমাদের মাঝে অবস্থান
কর!
আরেকটি মন্ত্র কৃষকদের অভিনন্দন
জানাতে গিয়ে বলছে-
নমস্তে লাঙ্গলেভ্যো নম…
বিরুত্ক্ষেত্রিযনাশন্যপা…(অথর্ববেদ
২.৮.৪)
অর্থাত্ যারা লাঙ্গল ও চাষের
মাধ্যমে জমিতে ফসল ফলান তাদের
জানাই নমস্কার।
অভিবাদনরুপে নমস্কার প্রদানের
উত্কৃষ্ট উদাহরন যজুর্বেদের
নিম্নলিখিত মন্ত্রটি-
নমো জ্যেষ্ঠায় চ কনিষ্ঠায় চ
নমং পূর্বজায় চাপরজায চ
নমো মধ্যমায় চাপগল্ভায় চ
নমো জঘন্যায় চ বুধ্ন্যায় চ।।(যজুর্বেদ
১৬.৩২)
অনুবাদ-নমস্কার
জ্যেষ্ঠদেরকে,নমস্কার
কনিষ্ঠদেরকে,নমস্কার
উচ্চবিত্ত,মধ্যবিত্ত,ধনী-
গরীব,জ্ঞানী,স্বল্পজ্ঞানী সকলকে!
অর্থাত্ এ
থেকে আমরা জানতে পারি যে
নমস্কার এমন ই এক অনন্য অভিবাদন
যাতে ধনী-গরীব,ছোট-বড়,শিক্ষিত-
অশিক্ষিত ভেদ নেই।যে কেউ ই
এটা যে কাউকে দিতে পারে।
আমাদের বৈদিক ঋষিগন সকলেই
নমস্কার দিয়ে অভিবাদন
জানাতেন,শ্রীরাম,শ্রীকৃষ্ণ সকলেই
নমস্তে ব্যবহার করতেন অভিবাদন
জানাতেন।আর তার ই ভক্তরুপ
ব্যক্তিগন আজ হিন্দুসমাজে নিয়ম চালু
করছে নমস্কার না বলে ‘হরে কৃষ্ণ’
ইত্যাদি নিজেদের
বানানো কথা বলতে।অথচ শ্রীকৃষ্ণ
নিজেও তাঁর ভক্তদেরকে নমস্কার বাদ
দিয়ে ‘হরে কৃষ্ণ’ বলতে বলেন নি।ঈশ্বর
অজ্ঞানীদের আলোর পথ দেখাক এই
কামনা থাকল।
তবে শেষ করার আগে একটি চমকপ্রদ
তথ্য দিয়ে শেষ করি।২০০২ সালের জুন
মাসে প্রকাশিত ইন্ট্যারন্যশনাল
ইয়োগা সোসাইটির
ম্যগাজিনে বলা হয়
যে তারা বৈজ্ঞানিক পরীক্ষার
মাধ্যমে দেখেছেন যে নমস্কার
ভঙ্গীতে অর্থাত্ অঞ্জলি মুদ্রায়
প্রানায়াম বা ধ্যন করলে তা হাতের
মাংসপেশীকে শিথিল
করে এবং এটি মাংসপেশীজনিত
ব্যথা নিরাময়ে উপকারী।
ওঁ শান্তি শান্তি শান্তি

কিভাবে সৃষ্টি হয়েছিল এ পৃথিবী?(বেদ ও বিজ্ঞান)

কিভাবে সৃষ্টি হয়েছিল এ পৃথিবী? আদিকাল থেকে এখনো পর্যন্ত এ যেন মানুষের এক অনন্ত জিজ্ঞাসা। সৃষ্টিতত্ত্ব নিয়ে বেদ এর বিখ্যাত নাসাদিয় সুক্ত এবং হিরন্যগর্ভ সুক্ত এর কথা অনেকেই জানেন।ধর্মবিশেষজ্ঞ ও বিজ্ঞানী মহলে বহুল আলোচিত এই দুটি সুক্তের আলোকে সৃষ্টিতত্ত্ব সংক্ষেপে আলোচনা করা হল-
ঋগবেদ ১০/১২৯/১
“নাসাদাসিস নঃ সদাসিত্ তদানীম নাসিদ রজ ন ব্যামাপ্রো যৎ…”
“শুরুতে কোন অস্তিত্ব(সৎ) বা অনস্তিত্ব(অসৎ) ছিলনা।সেখানে ছিলনা কোন বায়ুমন্ডল”
ঋগবেদ ১০/১২৯/৩
“তম অসিৎ তমস… তপসস্তন্মহিনাজা
য়াতৈকম”
“চারদিক ছিল অন্ধকারাচ্ছন্ন।সমস্ত জিনিস একত্রে পুন্জীভুত ছিল।সেখান থেকে প্রচন্ড তাপের সৃষ্টি হল”
একইভাবে
ঋগবেদ ১০/১২১/১
“হিরন্যগর্ভ সামাভরতাগ্রে..”
“প্রথমেই হিরন্যগর্ভ সৃষ্টি হল”
ঋগবেদ ১০/১২১/৭
“আপ হ য়দ বৃহাতিরিবিশ্বমায়ান গর্ভম…”
“সেই হিরন্যগের্ভ ছিল উত্তপ্ত তরল যাতে ছিল সৃষ্টির সমস্ত বীজ”
একই ধরনের কথা বলছে শতপথ ব্রাক্ষ্মন ১১.১.৬.১
“হিরন্যগর্ভানি অপঃ তে সলিলা…”
“প্রথমে হিরন্যগর্ভ সৃষ্টিহল।সেখানে
ছিল উত্তপ্ত গলিত তরল।এটি ছিল মহাশুন্যে ভাসমান।বছরের পরবছর এই অবস্থায় অতিক্রান্ত হয়।”
ঋগবেদ ১০.৭২.২
“তারপর যেখানে বিস্ফোরন ঘটল গলিত পদার্থ থেকে,বিন্দু থেকে যেন সব প্রসারিত হতে শুরু হল”
ঋগবেদ ১০.৭২.৩
“সেই বিস্ফোরিত অংশসমূহ থেকে বিভিন্ন গ্রহ,নক্ষত্র তৈরী হল”
ঋগবেদ ১০.৭২.৪
“তার এক জীবনপ্রদ অংশ থেকে পৃথিবী সৃষ্টি হল”
ঋগবেদ ১০.৭২.৮-৯
“তারপর সৃষ্ট ক্ষেত্রে সাতধাপে সংকোচন-প্রসারন সম্পন্ন হল।তারপর সৃষ্টি হল ভারসাম্যের।”
এই অংশটুকু পরলেই স্পষ্ট বোঝা যায় বেদের সৃষ্টিতত্ত আধুনিক বিজ্ঞানের সাথে কতটুকু সামঞ্জস্যপূর্ণ।সৃষ্টিতত্তের সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য মডেল “Lambda-CDM Concordance Model” অনুযায়ী “The evolution of the universe from a very uniform, hot, dense primordial state to its present অর্থাৎ একটি উত্তপ্ত, কেন্দ্রীভূত আদি অবস্থা থেকেই বর্তমান অবস্থার উত্থান।” এছাড়া বেদএ উল্লেখিত বিস্ফোরণ বর্তমান বিশ্বের বহুল আলোচিত বিগ ব্যাংগ তত্তের সাথে প্রায় পুরোপুরি মিলে যায়।
আশ্চর্যের এখানেই শেষ নয়।বেদ এর মতে সৃষ্টির শুরুতেই ওঁম উচ্চারিত হয় আর এর প্রভাবেই হয় বিস্ফোরন ।
বেদান্ত সূত্র(4/22) “অনাবৃতিঃ শব্দহম” অর্থাৎ শব্দের মাধ্যমেই সৃষ্টির শুরু যা মাত্র দুই বছর আগে বিজ্ঞানীরা আবিস্কার করেছেন।
এই শব্দ তরঙ্গকে আধুনিক বিজ্ঞানের ভাষায় Cosmic sound wave বলা হয়। ইউনিভার্সিটি অব এরিজোনা এর এস্ট্রোনমির প্রফেসর ডেনিয়েল জে আইনস্টাইন এবং জন হপকিন্স ইউনিভার্সিটির পদার্থবিদ্যার প্রফেসর চার্লস বার্নেটের সম্মিলিত আর্টিকেল “Cosmic sound wave rules” থেকে কি করে এই শব্দের মাধ্যমে মহাবিশ্ব সৃষ্টি হল তার ব্যখ্যা দেয়া হল। আমরা জানি যে সৃষ্টির শুরুতে মহাবিশ্ব ছিল একটি ঘন,উত্তপ্ত পিন্ড(বেদের ভাষায় হিরন্যগর্ভ বা হিরন্ময় ডিম)।
এই পিন্ডের মধ্যস্থিত পদার্থসমূহকে Cosmologist রা দুই ভাগে ভাগ করেন-Baryonic&Non-baryonic.Baryonic পদার্থ হল ইলেকট্রন,প্রোটন ও নিউট্রন।এইসময় এরা সকলেই ছিল আয়নিত অবস্থায়। প্রসারন শুরু হবার জন্য মূল ভূমিকা ই ছিল এই উত্তপ্ত ও আয়নিত Baryonic পদার্থগুলোর মধ্যস্থিত ইলেকট্রনগুলোর মাধ্যমে নিঃসৃত ফোটন কনাগুলো(Compton scattering of photon from electron)।এই ফোটন কনাগুলো উত্তপ্ত প্লাসমার সাথে Baryon-photon fluid তৈরী করে।কনাসমূহের মধ্যে সংঘর্ষের কারনে এই Fluid এর সংকোচন ঘটে কিন্তু এই সংকোচিত প্লাসমাই ফোটনসমূহকে উচ্চ বেগে বিচ্ছুরিত করে।যে স্থান থেকে ফোটনসমূহ নির্গত হয়ে যায় সেই স্থান ফাঁকা হয়ে যাওয়ায় সেখানে একটি নিম্নচাপ যুক্ত স্থান তৈরী হয় যা তার চারদিকের Fluid দ্বারা চাপ প্রাপ্ত হয়।আর এই চাপই সেই পানিতে একটি শব্দ তরঙ্গের সৃষ্টি করে,শুধু পার্থক্য হল এই যে এখানে কাউকে মুখে শব্দ করে তরঙ্গ তৈরী করতে হয়নি বরং ফোটন নির্গত হয়ে যাওয়ায় সৃষ্ট চাপের কারনেই এই তরঙ্গের তৈরী হয়। আর বৈদিক সৃষ্টিতত্ত্ব মতে এই শব্দ হল ওঁ! তাই বেদের সৃষ্টিতত্ত পড়ে ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয় এর Dr. Kevin Hurley বলেছিলেন
“How could Aryan sages have known all this 6000 years ago, when scientists have only
recently discovered this using advanced equipments which didn’t exist that time!”
নোবেল লরেট Count Maurice Maeterlinck বৈদিক সৃষ্টিতত্ত্ব নিয়ে বলেন “A Cosmogony which no European conception has ever surpassed!”